• শনিবার থেকে বৃহ:স্পতিবার
    সকাল ৯:০০ টা - বিকাল ৫:০০ টা


অভিবাসীর বাজেট ২০১৯ অনুষ্ঠিত
Published on : জুলাই 18, 2019


আগামী বাজেটে অভিবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনার পরিমান বাড়ানো হবে, অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত ‘অভিবাসীর বাজেট’ শীর্ষক আলোচনায় বলেছেন সংসদের ডেপুটি ¯পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, অভিবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে তাদেরও ন্যয্য অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে অভিবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, “আমাদের সংবিধানে বৈষম্যের কোন সুযোগ নেই। এই সংবিধান বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া সংবিধান।”

বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় পাঁচশ অভিবাসী কর্মী এই প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মৃণাল কান্তি দাস বলেন, বিমানবন্দরে অভিবাসী কর্মীদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা এবং দূতাবাসের লোকবল বৃদ্ধির জন্য স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সুপারিশ করা হবে।

বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রস্তুত করে তোলা সম্ভব। বিদেশে কর্মস্থলে কোন অভিবাসী কর্মী যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, “কর্মস্থলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর জন্য যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।” নারী কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা। দক্ষ অভিবাসনের গুরত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধুমাত্র দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, “আমাদের অভিবাসী কর্মীরা বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করছে। তাঁরা যেকোন নতুন ভাষা এবং পরিবেশের সাথে দ্রুততার সাথে মানিয়ে নিতে পারেন।”

ওকাপ টানা তৃতীয়বারের মত এই প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। মূল প্রবন্ধে ওকাপ চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা না থাকায় অভিবাসী কর্মীরা বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

এবারের ‘অভিবাসীর বাজেট’ আলোচনায় ওকাপ ক্ষতিগ্রস্ত নারী অভিবাসী কর্মীদের অনতিবিলম্বে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আনার দাবী জানিয়েছেন। ওকাপ চেয়ারম্যান বলেন, “নারী অভিবাসীদের পুনর্বাসন করা না গেলে অবস্থা ক্রমশই জটিল হবে। যা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মনিরুছ সালেহীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি নুরুল কাদের, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওম), বাংলাদেশের চিফ অব মিশন গিয়র্গি গিগরি সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

Share this